Kolkata, West Bengal 32°C | Sun, 25 Oct 2026
News • West Bengal Official Bulletin

Annapurna Yojana Form: মা-মেয়ে দুজনের নাম থাকলে কারা পাবেন ₹৩,০০০? জানুন ‘Yes’ দেওয়ার নিয়ম

Link successfully copied to clipboard!

Annapurna Yojana Form: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে একই পরিবারের একাধিক মহিলার নাম থাকলে অনেকেরই প্রশ্ন হচ্ছে, মা ও মেয়ের দুজনের নাম থাকলে কার পাশে ‘Yes’ দিতে হবে? আবার পরিবারের দুজনের নামের পাশে ‘Yes’ থাকলে কি দুজনেই মাসে ₹৩,০০০ করে পাবেন?

এই জায়গায় একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। পরিবারের সদস্য হিসেবে কারও নাম ফর্মে থাকা এবং সেই ব্যক্তি অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে চাইছেন কি না – এই দুটি বিষয় এক নয়। একইভাবে, আগে থেকেই কোনও সরকারি প্রকল্পের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে পাওয়া এবং অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন করে আবেদন করার ইচ্ছাও আলাদা তথ্য।

তাই মা ও মেয়ের নাম একই ফর্মে থাকলেও প্রত্যেকের তথ্য আলাদাভাবে দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত কার আবেদন অনুমোদিত হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি যাচাই ও যোগ্যতার উপর।

Table of Contents

Annapurna Yojana Form-এ ‘Yes’ কোথায় দিতে হবে?

পরিবারের সদস্যদের তথ্য নেওয়ার সময় ফর্মে একাধিক প্রশ্ন থাকতে পারে। তার মধ্যে একটি প্রশ্নের উদ্দেশ্য হল, পরিবারের কোন সদস্য অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে চান তা চিহ্নিত করা।

অর্থাৎ মা আবেদন করতে চাইলে মায়ের নামের সারিতে সংশ্লিষ্ট ‘Yes’ ঘরটি চিহ্নিত করতে হবে।

মেয়ে আবেদন করতে চাইলে মেয়ের নামের সারিতে একই প্রশ্নের ক্ষেত্রে তাঁর উত্তর দিতে হবে।

একজনের নাম পরিবারের সদস্য হিসেবে লেখা হয়েছে বলেই তাঁকে অন্নপূর্ণার আবেদনকারী হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

একটি সহজ উদাহরণ

ধরা যাক, একটি পরিবারের ফর্মে:

পরিবারের সদস্যবয়সঅন্নপূর্ণার জন্য আবেদন করতে চান?
মা৫৪ বছরYes
মেয়ে২৮ বছরNo

এই ক্ষেত্রে মা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক এবং মেয়ের নাম শুধু পরিবারের সদস্য হিসেবে রয়েছে।

আবার মা ও মেয়ে দুজনেই আবেদন করতে চাইলে, তাঁদের নিজ নিজ সারিতে সেই অনুযায়ী উত্তর দিতে হবে।

তবে ‘Yes’ চিহ্ন দেওয়ার অর্থ টাকা অনুমোদিত হয়ে যাওয়া নয়। এরপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা ও নথি যাচাই হবে।

‘Yes’ দেওয়ার আরেকটি প্রশ্ন কেন আছে?

ফর্মের অন্য অংশে কোনও পরিবারের সদস্য ইতিমধ্যে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বা DBT-এর মাধ্যমে টাকা পাচ্ছেন কি না, সেই তথ্যও চাওয়া হতে পারে।

এখানে ‘Yes’ বলার অর্থ হল ওই ব্যক্তি আগে থেকেই কোনও সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন।

এটি অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করতে চান কি না, সেই প্রশ্ন থেকে আলাদা।

ফর্মের প্রশ্ন‘Yes’ এর অর্থ
Applying for Annapurna Yojanaওই ব্যক্তি অন্নপূর্ণার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক
Already receiving government benefit/DBTওই ব্যক্তি আগে থেকেই কোনও সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন

তাই একই পরিবারের মা ও মেয়ে দুজনের ক্ষেত্রে দুটি আলাদা প্রশ্নের উত্তর একই হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই।

মা ও মেয়ে দুজনেই কি ₹৩,০০০ করে পাবেন?

শুধু একই পরিবারের সদস্য হওয়া বা ফর্মে দুজনের নাম থাকার ভিত্তিতে দুজনের মাসিক ₹৩,০০০ করে পাওয়া নিশ্চিত নয়।

প্রত্যেক আবেদনকারীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং জমা দেওয়া তথ্য যাচাই করা হবে।

অর্থাৎ:

  1. মা যোগ্য হলে মায়ের আবেদন বিবেচিত হতে পারে।
  2. মেয়ে যোগ্য হলে মেয়ের আবেদনও বিবেচিত হতে পারে।
  3. দুজনের তথ্য ফর্মে থাকলেই দুজনের অনুমোদন হয়ে যায় না।
  4. ‘Yes’ চিহ্ন মূলত আবেদন করার ইচ্ছা বা সংশ্লিষ্ট তথ্য নির্দেশ করে।
  5. চূড়ান্ত অনুমোদন সরকারি যাচাই ও প্রযোজ্য নিয়মের উপর নির্ভর করবে।

Annapurna Yojana Eligibility: মা ও মেয়ের যোগ্যতা আলাদা করে দেখা হবে

অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে পরিবারের তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহিলার নিজের যোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশিত প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সসীমা গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলির একটি।

তবে শুধু বয়সের শর্ত পূরণ করলেই সুবিধা নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীর অন্যান্য যোগ্যতা, সরকারি সুবিধা পাওয়ার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিও যাচাই করা হতে পারে।

ধরা যাক, মায়ের বয়স ৫৪ বছর এবং মেয়ের বয়স ২৮ বছর। দুজনের বয়সই নির্ধারিত সীমার মধ্যে হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে দুজনের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে।

আবার মা বয়সের কারণে যোগ্য না হলে, সেই কারণে মেয়ের আবেদনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না। দুজনের যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।

আগে থেকে সরকারি প্রকল্পের টাকা পেলে কী হবে?

ফর্মে পরিবারের কোনও সদস্য আগে থেকে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা বা অন্য সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেই তথ্য সত্যভাবে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ আগে থেকে কোনও সুবিধা পাচ্ছেন বলেই অন্নপূর্ণা যোজনায় তাঁর আবেদন নিশ্চিতভাবে বাতিল হবে – এমন সিদ্ধান্ত শুধু ফর্মের একটি প্রশ্ন দেখে নেওয়া ঠিক নয়।

আবার আগের কোনও সরকারি সুবিধার তথ্য গোপন করেও আবেদন করা উচিত নয়।

ফর্মে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে, সেটি সঠিকভাবে দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করবে।

Annapurna Yojana-এর টাকা কার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে?

অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা অনুমোদিত হলে টাকা সুবিধাভোগীর নিজের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

তাই মা ও মেয়ে দুজন আলাদা আবেদনকারী হলে তাঁদের ব্যাঙ্কের তথ্যও সঠিক ব্যক্তির নামে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ:

মা আবেদনকারী হলে: মায়ের নামের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হবে।

মেয়ে আবেদনকারী হলে: মেয়ের নিজের নামের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হবে।

পরিবারের প্রধানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লেখা হয়েছে বলেই পরিবারের অন্য সদস্যের অন্নপূর্ণার টাকা সেই অ্যাকাউন্টে চলে যাবে – এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ফর্ম জমা দেওয়ার আগে কী কী মিলিয়ে দেখবেন?

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম জমা দেওয়ার আগে মা ও মেয়ের তথ্য আলাদা করে যাচাই করে নিন।

  1. নামের বানান ঠিক আছে কি না।
  2. জন্মতারিখ সঠিক কি না।
  3. আধার নম্বর সঠিক সদস্যের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে কি না।
  4. কে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে চান, তাঁর সারিতে সঠিক উত্তর দেওয়া হয়েছে কি না।
  5. আগে থেকে কোনও সরকারি DBT সুবিধা পেলে তার তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না।
  6. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নাম আবেদনকারীর সঙ্গে মিলছে কি না।
  7. প্রয়োজনীয় নথিগুলি সঠিকভাবে জমা হয়েছে কি না।

Annapurna Yojana Form: মা-মেয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

বিষয়কী মনে রাখবেন
একই পরিবারের নামএকাধিক সদস্যের নাম থাকতে পারে
‘Applying for Annapurna’আবেদন করতে ইচ্ছুক সদস্যকে চিহ্নিত করে
অন্য DBT সুবিধাআলাদা প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে
দুজনের ‘Yes’দুজনের টাকা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়
বয়সপ্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিবেচ্য
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টসুবিধাভোগীর নিজের তথ্য সঠিক হওয়া জরুরি
চূড়ান্ত অনুমোদনসরকারি যাচাইয়ের উপর নির্ভরশীল

মা ও মেয়ের নাম থাকলে কোন ঘরে ‘Yes’ দেবেন?

সহজভাবে বললে, যে ব্যক্তি অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে চান, তাঁর নিজের সদস্যের সারিতে ‘Yes’ দিতে হবে।

মা আবেদন করতে চাইলে মায়ের সারিতে।

মেয়ে আবেদন করতে চাইলে মেয়ের সারিতে।

দুজনেই আবেদন করতে চাইলে, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য প্রশ্নের উত্তর আলাদাভাবে দিতে হবে।

তবে মনে রাখবেন, ‘Yes’ মানেই ₹৩,০০০ টাকা অনুমোদন নয়। এটি আবেদন বা তথ্যের একটি অংশ মাত্র। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি যাচাইয়ের পরে হবে।

Frequently Asked Questions

একই ফর্মে মা ও মেয়ের নাম থাকলে দুজনেই কি অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন?

শুধু একই ফর্মে নাম থাকার কারণে দুজনের টাকা নিশ্চিত হয় না। প্রত্যেকের যোগ্যতা ও আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হবে।

মা ও মেয়ে দুজনেই আবেদন করতে চাইলে কী করবেন?

দুজনের নাম যে সদস্য সারিতে রয়েছে, সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ‘Applying for Annapurna Yojana’ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

ফর্মে ‘Yes’ দিলে কি ₹৩,০০০ পাওয়া নিশ্চিত?

না। ‘Yes’ মূলত আবেদন করার ইচ্ছা বা সংশ্লিষ্ট তথ্য নির্দেশ করে। চূড়ান্ত অনুমোদন সরকারি যাচাইয়ের উপর নির্ভর করে।

অন্য সরকারি প্রকল্পের টাকা পেলে কী তথ্য দিতে হবে?

ফর্মে যদি আগে থেকে সরকারি সুবিধা বা DBT পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন থাকে, তাহলে প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী উত্তর দিতে হবে।

মা ও মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কি আলাদা হতে হবে?

যে ব্যক্তি অনুমোদিত সুবিধাভোগী, তাঁর নিজের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

একই পরিবারের দুজন মহিলা কি অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে পারেন?

দুজনের যোগ্যতা ও প্রকল্পের প্রযোজ্য নিয়ম পূরণ হলে তাঁদের আবেদন আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে। শুধু পরিবারের সদস্য হওয়ার ভিত্তিতে অনুমোদন নিশ্চিত নয়।

শেষ কথা

Annapurna Yojana Form-এ মা ও মেয়ের নাম থাকলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রত্যেকের তথ্য আলাদাভাবে দেওয়া। পরিবারের সদস্য হিসেবে নাম থাকা, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করার ইচ্ছা এবং আগে থেকে অন্য সরকারি DBT সুবিধা পাওয়া – এই তিনটি বিষয় এক নয়।

তাই ফর্মে কোনও ঘরে ‘Yes’ দেওয়ার আগে প্রশ্নটি ঠিক কী জানতে চাইছে তা বুঝে উত্তর দিন। বিশেষ করে মা ও মেয়ের সদস্য নম্বর, আধার, বয়স, আবেদন করার ইচ্ছা এবং ব্যাঙ্কের তথ্য যেন একে অপরের সঙ্গে গুলিয়ে না যায়।

সবশেষে মনে রাখবেন, ফর্মে ‘Yes’ দেওয়াই ₹৩,০০০ পাওয়ার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা নয়। আবেদন গ্রহণের পর যোগ্যতা, নথি এবং অন্যান্য তথ্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করেই সুবিধা অনুমোদন করা হবে।

Priyanka Dutta
Author & Editor

Priyanka Dutta

Contributing journalist and editor at W-B.co.in covering state governance, educational reforms, recruitment updates, and district heritage across West Bengal.

View all articles by Priyanka Dutta →

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *