Newtown Adani Hospital: কলকাতার নিউটাউনে তৈরি হতে চলেছে আদানি গোষ্ঠীর ২,০০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২ এলাকায় এই হাসপাতাল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রস্তাবিত হাসপাতালটি প্রায় ৫১ একর জমির উপর তৈরি হওয়ার কথা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিউটাউন তথা কলকাতার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এটি একটি বড় সংযোজন হতে পারে।
Newtown Adani Hospital প্রকল্পে কী থাকছে?
আদানি আরোগ্য মন্দিরে মোট ২,০০০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১,০০০টি শয্যা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাকি ১,০০০টি শয্যা বাণিজ্যিক চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় থাকবে বলে আগে জানানো হয়েছিল।
প্রকল্পটির সঙ্গে একটি বড় হেলথ সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। প্রশাসনিক সূত্রের আগের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Mayo Clinic-এর সঙ্গে সহযোগিতার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কত টাকা বিনিয়োগ করা হবে?
নিউটাউনের এই হাসপাতাল প্রকল্পে বিনিয়োগের অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জুলাই মাসের রিপোর্টে প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা বলা হয়েছিল।
তবে ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে আদানি গোষ্ঠীর তরফে প্রকল্পে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পের চূড়ান্ত বিনিয়োগের অঙ্ক নিয়ে পরবর্তী সরকারি বা সংস্থার বিস্তারিত ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
২ হাজার শয্যার হাসপাতাল কোথায় তৈরি হবে?
প্রস্তাবিত হাসপাতালটি কলকাতার নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২ এলাকায় তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য প্রায় ৫১ একর জমি ব্যবহার করা হবে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি, তাঁর স্ত্রী তথা আদানি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন প্রীতি আদানি, ছেলে করণ আদানি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ফলকও উন্মোচন করা হয়।
দরিদ্র রোগীদের জন্য ১,০০০ শয্যা
এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দরিদ্র ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য নির্দিষ্ট শয্যা রাখার পরিকল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জুলাই মাসে জানিয়েছিলেন, ২,০০০ শয্যার মধ্যে ১,০০০টি শয্যা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
এর ফলে প্রকল্পটি চালু হলে নিউটাউন ও কলকাতা সংলগ্ন এলাকার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মানুষেরও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় নতুন সংযোজন
নিউটাউনে এই হাসপাতাল প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যে বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বড় হাসপাতাল প্রকল্পের সম্প্রসারণের বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। নিউটাউনে আরও একটি ৬০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার কথাও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
আদানি গোষ্ঠীর ২,০০০ শয্যার হাসপাতাল চালু হলে কলকাতা ও নিউটাউন অঞ্চলে বড় হাসপাতালগুলির স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিকাঠামো আরও বিস্তৃত হবে।
কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল প্রকল্পকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। হাসপাতাল পরিষেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্যশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহযোগী পরিষেবাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর বাস্তবে কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা নির্মাণ ও পরিচালনার পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।
কবে থেকে হাসপাতাল চালু হবে?
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। তবে হাসপাতালটি ঠিক কবে থেকে সাধারণ মানুষের জন্য চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট উদ্বোধনের তারিখ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে হাসপাতালের বিভিন্ন পরিষেবা চালু হতে পারে।
শেষ কথা
নিউটাউনে ২,০০০ শয্যার Newtown Adani Hospital বা Adani Arogya Mandir প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় একটি বড় আকারের প্রস্তাবিত সংযোজন। ৫১ একর জমিতে হাসপাতাল, দরিদ্র মানুষের জন্য ১,০০০ শয্যার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা ও গবেষণার সম্ভাবনা প্রকল্পটিকে নজরে এনেছে।
তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত অঙ্ক, নির্মাণের সময়সীমা এবং হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা সম্পর্কে সংস্থার পরবর্তী বিস্তারিত ঘোষণা প্রকাশিত হলে প্রকল্পটির বাস্তব পরিধি আরও স্পষ্ট হবে।