পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে এবার VB-G RAM G Scheme-এর অধীনে বছরে ১২৫ দিনের মজুরি-ভিত্তিক কাজের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গে নতুন এই কর্মসংস্থান ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ডধারীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানানো হয়েছে। তবে শুধু জব কার্ড থাকলেই নির্দিষ্ট একটি টাকা সরাসরি পাওয়া যাবে এমন নয় – কাজের দিন এবং প্রযোজ্য সরকারি মজুরি অনুযায়ী উপার্জনের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
West Bengal Job Card Scheme 2026 – কী পরিবর্তন হল?
নতুন VB-G RAM G ব্যবস্থায় গ্রামীণ পরিবারের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
| বিষয় | নতুন তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প | VB-G RAM G |
| পুরনো কর্মসংস্থান ব্যবস্থা | MGNREGA |
| নতুন কর্মদিবস | সর্বোচ্চ ১২৫ দিন |
| কার্যকর | ১ জুলাই ২০২৬ |
| সম্ভাব্য জব কার্ডধারী | প্রায় ২.৫৬ কোটি |
| কাজের ধরন | গ্রামীণ উন্নয়ন ও মজুরি-ভিত্তিক কাজ |
| মজুরি | প্রযোজ্য সরকারি হারে |
| টাকা দেওয়ার পদ্ধতি | ব্যাঙ্ক/পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্টে সরাসরি |
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওয়েবসাইটেও Job Card-কে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের অধিকার ও নথি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জব কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত পরিবারের সদস্যরা কাজের দাবি করতে পারেন এবং কাজ ও মজুরির তথ্য নথিভুক্ত থাকে।
বছরে ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ
আগের ১০০ দিনের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার পরিবর্তে VB-G RAM G-তে বছরে ১২৫ দিনের মজুরি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের বিধান রাখা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ১২৫ দিন কাজের সুযোগ থাকা এবং ১২৫ দিন নিশ্চিতভাবে কাজ পাওয়া এক বিষয় নয়। বাস্তবে কত দিন কাজ পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, কাজের প্রাপ্যতা এবং প্রশাসনিক বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
১২৫ দিন কাজ করলে কত টাকা পাওয়া যাবে?
এই জায়গাতেই অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
জুলাই ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ব্যবস্থার জন্য ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ₹৩০০ করার কথা প্রকাশিত হয়েছে। সেই হিসাবে কেউ যদি পুরো ১২৫ দিন কাজ করেন, তাহলে হিসাব দাঁড়ায়:
₹৩০০ × ১২৫ দিন = ₹৩৭,৫০০
তাই ₹৩৪,৫০০-কে সবার জন্য নিশ্চিত বার্ষিক টাকা হিসেবে বলা ঠিক নয়। প্রকৃত উপার্জন নির্ভর করবে প্রযোজ্য মজুরি হার এবং বাস্তবে কত দিন কাজ পাওয়া ও করা হয়েছে তার ওপর।
কারা জব কার্ডের সুবিধা পাবেন?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের নিয়ে গঠিত যে পরিবার অদক্ষ শারীরিক শ্রম করতে ইচ্ছুক, তারা সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারেন।
সাধারণভাবে জব কার্ডের জন্য:
- গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বসবাসকারী পরিবার হতে হবে।
- পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের অদক্ষ শ্রমের কাজে আগ্রহী হতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।
- প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের পর জব কার্ড ইস্যু করা হয়।
- কাজের আবেদন ও কর্মদিবসের তথ্য জব কার্ডে নথিভুক্ত করা হয়।
জব কার্ডে কী কী তথ্য থাকে?
জব কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।
এর মধ্যে থাকতে পারে:
- পরিবারের সদস্যদের নাম
- ছবি
- নিবন্ধনের তথ্য
- কাজের বিবরণ
- কাজের দিন
- মজুরি সংক্রান্ত তথ্য
- সংশ্লিষ্ট অন্যান্য entitlement বা সুবিধার তথ্য
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কাজের জন্য বরাদ্দ এবং মজুরি প্রদানের তথ্য নিয়মিতভাবে জব কার্ডে আপডেট করার ব্যবস্থা রয়েছে।
জব কার্ডের টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে?
কাজ করার পর প্রাপ্য মজুরি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্টে সরাসরি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তাই জব কার্ডধারীদের নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সঠিক আছে কিনা এবং প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে তা যুক্ত রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
জব কার্ড যাচাই কেন করা হচ্ছে?
জব কার্ডের তথ্য সঠিক রাখা এবং প্রকৃত কর্মীদের চিহ্নিত করার জন্য যাচাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ব্যবস্থায় জব কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত পরিবার এবং কাজের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।
এর ফলে:
- প্রকৃত কর্মীদের শনাক্ত করা সহজ হয়।
- কাজের দিনের হিসাব রাখা যায়।
- মজুরি প্রদানের তথ্য নথিভুক্ত থাকে।
- সরকারি অর্থের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা যায়।
- একই পরিবারের সদস্য ও নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়।
পশ্চিমবঙ্গে ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারী
VB-G RAM G চালুর আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ডধারীকে নতুন ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছিল।
তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক কার্ডধারীর অ্যাকাউন্টে একই পরিমাণ টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে। কাজ পাওয়া, কাজের দিন এবং সংশ্লিষ্ট মজুরি হার অনুযায়ী প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
কোথায় জব কার্ডের জন্য আবেদন করবেন?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জব কার্ডের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত, BDO অফিস, জেলা স্তরের সংশ্লিষ্ট দফতর এবং নির্দিষ্ট Common Service Centre বা CSC-এর মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতে পারে।
সরকারি ওয়েবসাইটে Job Cards under VB-G RAM G / MGNREGS-এর জন্য আলাদা তথ্য পেজও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Job Card তথ্য
Frequently Asked Questions
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| নতুন ব্যবস্থায় কত দিনের কাজের সুযোগ রয়েছে? | বছরে সর্বোচ্চ ১২৫ দিনের মজুরি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের বিধান রয়েছে। |
| নতুন প্রকল্পের নাম কী? | VB-G RAM G বা Viksit Bharat – Guarantee for Rozgar and Ajeevika Mission (Gramin)। |
| প্রকল্পটি কবে থেকে কার্যকর? | ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হয়েছে। |
| জব কার্ড থাকলেই কি নির্দিষ্ট টাকা পাওয়া যাবে? | না। কাজের দিন এবং প্রযোজ্য মজুরি অনুযায়ী টাকা পাওয়া যাবে। |
| ১২৫ দিন কাজ করলে কত টাকা হতে পারে? | জুলাই ২০২৬-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দৈনিক ₹৩০০ ধরে ১২৫ দিনে ₹৩৭,৫০০ হয়। |
| জব কার্ড কোথায় পাওয়া যায়? | গ্রাম পঞ্চায়েত, BDO অফিস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করা যায়। |
| টাকা কীভাবে দেওয়া হয়? | সরকারি ব্যবস্থায় ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্টে সরাসরি মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। |
শেষ কথা
West Bengal Job Card Scheme 2026 নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ১০০ দিনের পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের বিধান চালু হয়েছে। প্রায় ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারীকে এর আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে।
তবে “জব কার্ড থাকলেই বছরে ₹৩৪,৫০০ নিশ্চিত” – এই দাবিকে সরাসরি সরকারি নিশ্চিত নগদ সুবিধা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কত টাকা পাওয়া যাবে তা নির্ভর করবে বাস্তবে কত দিন কাজ করা হয়েছে এবং সেই সময়ের প্রযোজ্য মজুরি হারের ওপর।